
শুক্র গ্রহ (Planet Venus) : সকালের শুক তারা ও রাতের সন্ধ্যা তারা!!
শুক্র গ্রহ (Venus) হল সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ যা রাতের আকাশে চাঁদের পর সবচেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কগুলির মধ্যে একটি। শুক্র গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর আকার ও ভরের মিল থাকায় একে পৃথিবীর ‘যমজ গ্রহ’ বলা হয়। তবে শুক্র গ্রহের পরিবেশ উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ সম্পন্ন।পৃথিবীতে যেমন জলের মেঘ রয়েছে শুক্র গ্রহেও মেঘ রয়েছে তবে সেটি সালফিউরিক অ্যাসিড দিয়ে তৈরি। হাজার হাজার বছর ধরে এই গ্রহ জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং গল্পকারদের আকৃষ্ট করে এসেছে। গ্যালেলিও শুক্রকলা পর্যবেক্ষণের পর আরও নিশ্চিত হন যে কোপারনিকাসের সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্ব সঠিক।
শুক্র গ্রহের অপর নাম
গ্রীক সাহিত্যিক হোমার শুক্র গ্রহকে ‘আকাশের সবচেয়ে সুন্দর তারা’ বলেছিলেন। তখনকার লোকেরা একে অ্যাফ্রোডাইট (Aphrodite) নাম দিয়েছিল যার অর্থ প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী। ভোর আকাশে একে Phosphorus ও সন্ধ্যা বেলা Hesperus বলা হতো।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় এই গ্রহের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। সে সময় শুক্র গ্রহকে দেবী ইশতার (Ishtar)-এর প্রতীক হিসেবে মনে করা হতো যিনি ছিলেন প্রেম, সৌন্দর্য, উর্বরতা ও যুদ্ধের দেবী।
প্রাচীন ভারতে এটি শুক্র (Shukra) নামে পরিচিত যা নবগ্রহের অন্যতম। বৈদিক সভ্যতায় এটি ছিল জ্ঞান, ঐশ্বর্য ও উর্বরতার প্রতীক।
মায়া সভ্যতাতে শুক্র গ্রহকে ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বিজ্ঞান শাস্ত্রে ব্যবহার করা হতো।
রোমান সভ্যতায় এটি ভেনাস নামে পরিচিত ছিল যা প্রেম, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী ছিলেন।
পৌরাণিক কাহিনি
রোমান পুরাণ অনুযায়ী, ভেনাস ছিলেন সৌন্দর্য ও প্রেমের দেবী। কথিত আছে দেবী ভেনাস সমুদ্রের ফেনা থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
হিন্দু পুরাণে শুক্রাচার্য, যিনি শুক্র গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত, অসুরদের গুরু ছিলেন। তিনি মৃতকে পুনর্জীবিত করার বিদ্যা জানতেন এবং অসাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন।
ব্যাবিলনীয় পুরাণে ইশতারকে প্রেম, শক্তি, উর্বরতা এবং পাতাললোকের সঙ্গে সম্পর্কিত দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
শুক্র সম্পর্কে প্রাচীন ধারণা
প্রাচীন জ্যোতির্বিদরা লক্ষ্য করেছিলেন যে শুক্র কখনও সূর্যোদয়ের আগে, আবার কখনও সূর্যাস্তের পরে দেখা যায়। প্রথমদিকে অনেক সভ্যতা মনে করতো “শুক তারা” (Morning Star) এবং “সন্ধ্যা তারা” (Evening Star) দুটি ভিন্ন জ্যোতিষ্ক।
600 খ্রীস্টাব্দে গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাস উপলব্ধি করেছিলেন যে উভয়টিই একই গ্রহ।
মায়া সভ্যতার জ্যোতির্বিদরা শুক্রের গতিবিধি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই তথ্য ব্যবহার করতেন।
আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল হওয়ায় শুক্র বহু সভ্যতার কাছে নৌ-পরিবহন, কৃষিকাজ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক ছিল।
শুক্রের কলা (Phases)

চাঁদের মতো শুক্রও বিভিন্ন কলা প্রদর্শন করে, কারণ এটি পৃথিবীর কক্ষপথের ভেতরে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
শুক্রের প্রধান কলাগুলি হলো—
- নব (New Venus)
- অর্ধচন্দ্রাকার (Crescent Venus)
- অর্ধ (Half Venus)
- গিবাস (Gibbous Venus)
- পূর্ণ (Full Venus)
যখন শুক্র পৃথিবীর কাছাকাছি থাকে, তখন এটি আকারে বড় দেখায় কিন্তু সরু অর্ধচন্দ্রের মতো দেখা যায়। অন্যদিকে সূর্যের বিপরীত পাশে অবস্থান করলে এটি প্রায় পূর্ণ কলায় দেখা যায়, তবে আকারে ছোট দেখায়।
এই লিঙ্কে গিয়ে শুক্রের বিভিন্ন দশায় কীরূপ দেখায় তার অ্যানিমেশনটি দেখুন।
1610 সালে গ্যালিলিও গ্যালিলেই তার নিজের তৈরি দূরবীনের মাধ্যমে শুক্রের কলা পর্যবেক্ষণ করেন। এই পর্যবেক্ষণ সূর্যকেন্দ্রিক (Heliocentric) সৌরজগতের মডেলের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ প্রদান করেন।
আধুনিক পর্যবেক্ষণে শুক্র
ভৌত বৈশিষ্ট্য
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: 1.08\times10^8 km কিলোমিটার
- ব্যাস: 12,104 কিলোমিটার
- ভর: 4.86\times10^24 kg যা পৃথিবীর ভরের প্রায় 81.5%
- আবর্তনকাল (Rotation): 243 পৃথিবী দিন
- পরিক্রমণকাল (Revolution): 225 পৃথিবী দিন
- অভিকর্ষজ ত্বরণ: 8.85 m/s^2 যা পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রায় 90%। এর অর্থ হল পৃথিবীপৃষ্ঠে 1 kg ভরের বস্তুকে তুলতে যতটা বল লাগবে সেই বলে শুক্রগ্রহের পৃষ্ঠে 1.1 kg ভর তোলা সম্ভব।
বায়ুমণ্ডল
সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ হল শুক্র। বুধ গ্রহ সূর্যের কাছে থাকলেও শুক্র গ্রহের উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা 450 ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি অতিক্রম করে ফেলে। 1961 থেকে 1984 সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেকগুলি প্রোব শুক্র গ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠায়। এদের মধ্যে দশটি শুক্র গ্রহের ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে আবার কয়েকটি ঠিকঠাক কাজ করতে পেরেছে। প্রোবগুলি সর্বোচ্চ দু ঘন্টা শুক্রের বায়ুমন্ডলে টিকে থাকতে পেরেছে। এগুলোর থেকে যেসব ছবি পাওয়া গেছে তা থেকে জানা যায় শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠ একদম পাথুরে, নির্জন এবং আকাশ হলুদ বর্ণের।
শুক্র গ্রহে যে সর্বোচ্চ পর্বতটি পাওয়া গেছে তার উচ্চতা প্রায় 11 কিলোমিটার।
শুক্র গ্রহের বায়ুমন্ডলে 96.5% কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। এই কার্বন ডাই অক্সাইড হলো এক প্রকারের গ্রীন হাউস গ্যাস। এর জন্য শুক্রের উষ্ণতা আরও বেশি হয়ে যায় এবং বুধ গ্রহের উষ্ণতাকেও অতিক্রম করে। এছাড়াও শুক্র বায়ুমন্ডলে 3.5% নাইট্রোজেন গ্যাস ও কিছুটা সালফার গঠিত যৌগ পাওয়া গেছে।
যদিও শুক্রের আকার পৃথিবীর প্রায় সমান তা সত্ত্বেও এর বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় 92 গুণ বেশি।
শুক্র গ্রহে জলের সেরকম তাৎপর্যপূর্ণ পরিমাণ পাওয়া যায়নি।
শুক্র গ্রহের উপগ্রহ
শুক্র গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই।
শুক্রের আবর্তন বা আহ্নিক গতি
শুক্র অনেক ধীরগতিতে আবর্তন করলেও এর একটি মজার ব্যাপার রয়েছে। এটি আসলে অন্যান্য গ্রহের থেকে উল্টো দিকে করে। অর্থাৎ শুক্র গ্রহে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যের উদয় হয় এবং পূর্ব দিকে সূর্যাস্ত যায়।
কিন্তু কেন এরকম হয!!
বিজ্ঞানীরা এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও কয়েকটি তত্ত্ব দিয়েছেন-
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন সৌরজগৎ গঠনের সময় একটি বড় গ্রহ বা গ্রহাণু শুক্র গ্রহের সঙ্গে ধাক্কা খায়; যা এর ঘূর্ণনকে বিপরীত দিকে ঘটায়।
- অনেকে মনে করেন শুক্র যেহেতু সূর্যের অনেক কাছে অবস্থিত এবং এর বায়ুমন্ডলের ঘনত্ব অনেক বেশী; সেজন্য কয়েক কোটি বছর ধরে ক্রিয়ারত মহাকর্ষীয় বল শুক্র গ্রহের আহ্নিক গতিকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয় এবং একসময় শুক্র উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করে। কম্পিউটার সিমুলেশন মডেলের মাধ্যমে জানা যায় এরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণা ও মহাকাশ অভিযান
মেরিনার-২ (Mariner 2)

1962 সালে নাসার মেরিনার 2 প্রোব প্রথম শুক্র গ্রহ পাশদিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 42 মিনিট ধরে পর্যবেক্ষণ করে মেরিনার 2 শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করে। এর থেকে জানা যায় শুক্র গ্রহের ভূপৃষ্ঠ থেকে 50 থেকে 80 কিলোমিটার এর মধ্যে ঘন মেঘের আস্তরণ রয়েছে।
সোভিয়েত ভেনেরা (Venera) কর্মসূচি (1964-1984)

1964 থেকে 1984 সালের মধ্যে রাশিয়া অনেকগুলি প্রয়োগ শুক্র গ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠায় একে ভেনেরা মিশন বলা হয়।
- ভেনেরা 4 থেকে জানা যায় যে শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
- ভেনেরা 7 থেকে শুক্রের বায়ুমণ্ডলের চাপ ও উষ্ণতা সম্পর্কে জানা যায় ।
- ভেনেরা 8 থেকে জানা যায় শুক্রের রুক্ষ ভূপৃষ্ঠে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম পটাশিয়াম ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে।
- ভেনেরা 9-এর গামা রশ্মি বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুক্রের পৃষ্ঠের প্রথম ছবি পাওয়া যায় যা প্রথম জনসাধারণের সামনে আনা হয়।
- ভেনেরা 13 গ্রহটির পৃষ্ঠের প্রথম রঙ্গিন ছবি পাঠায়।
- ভেনেরা 15 ও 16 থেকে প্রাপ্ত ছবিগুলি শুক্র গ্রহের টেকটনিক প্লেটের গতিবিধির প্রমাণ দেয়।
ম্যাগেলান মিশন (1989–1994)

1989 সালের 4ই মে নাসার ম্যাগেলান মহাকাশযান শুক্র গ্রহের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শুক্রের পৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করা।
তিনবার নিজের কক্ষপথ পরিবর্তন করে ম্যাগেলান 1990 সালের 10ই আগস্ট শুক্র গ্রহে পৌঁছায়। এরপর 10ই সেপ্টেম্বর থেকে এটি উচ্চ গুণ সম্পন্ন ভালো ভালো ছবি পৃথিবীতে পাঠাতে শুরু করে। এই ছবিগুলি দেখে শুক্র গ্রহে আগ্নেয়গিরি, টেকটনিক গতিবিধি, কয়েক কিলোমিটারের লাভা স্রোতের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

1991 সালের 15 ই মে-এর মধ্যে ম্যাগেলান শুক্র গ্রহের প্রায় ৮৪% মানচিত্র তৈরি করতে সমর্থ হয়। এর জন্য ম্যাগেলান 150 GB ডেটা পৃথিবীতে পাঠায়।
এরপর 1992 সালের 15ই জানুয়ারির মধ্যে ম্যাগেলান শুক্রের 96% মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়। ওই বছরের 13ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় 98% মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।
1993 সালের গরম কালে ম্যাগেলানকে ইচ্ছা করেই শুক্রের বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করানো হয়। এরপর 1994 সালে 13ই সেপ্টেম্বর ম্যাগেলানকে শুক্রের বায়ুমণ্ডলের আরও গভীরে নামানো হয়। ভারতীয় সময় বিকাল 3:35-এ ম্যাগেলানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং প্রায় 10 ঘণ্টা পরে এটি শুক্রের বায়ুমন্ডলে সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।
ম্যাগেলান থেকে প্রাপ্ত তথ্য গুলি হল
- শুক্রের 85% আগ্নেয়গিরি।
- এর গড় তাপমাত্রা 475 ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং বায়ুমন্ডলের চাপ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের চাপের প্রায় 92 গুণ।
ভেনাস এক্সপ্রেস (2005-2014)
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর এই মিশন শুক্রের বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু এবং মেঘের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করে।
ভেনাস এক্সপ্রেস মিশন টি ২০০৫ সালের ৯ই নভেম্বর ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি দ্বারা শুক্রের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। অবশেষে ২০০৬ সালের ১১ই এপ্রিল এটি শুক্র গ্রহে পৌঁছায়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই মহাকাশযান্তি শুক্র সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাঠায়।
ভেনাস এক্সপ্রেসের মূল লক্ষ্য ছিল-
- শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডল ও মেঘ সম্পর্কে গবেষণা
- কীভাবে এর আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তিত হয়।
- সৌর বায়ু শুক্রের বায়ুমণ্ডলকে কীভাবে প্রভাবিত করে
- শুক্রের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও ভৌগোলিক গঠন সম্পর্কে গবেষণা করা।
ভেনাস এক্সপ্রেসের সফলতা
- ভেনাস এক্সপ্রেস এর গবেষণা থেকে জানা যায় শুক্র গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে ঘূর্ণি প্রবাহ পাওয়া যায় যার দুটি চোখ। একে double-eyed vertex বলা হয়। এইরকম ঘটনা পৃথিবীতে পাওয়া যায় না।
- বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন ও ডয়েটেরিয়ামের উপস্থিতি থেকে অনুমান করা গেছে যে হয়তো অতীতে শুক্র গ্রহে জল ছিল।
- ২০১১ সালে জানা যায় পৃথিবীর মতো শুক্র গ্রহেও ওজোন স্তর রয়েছে।
- শুক্র গ্রহ গ্রীন হাউজ গ্যাস দিয়ে পরিপূর্ণ। সেজন্য এর তাপমাত্রা অনেক বেশি।
- এটা জানা গেছে যে সৌর বায়ু প্রবাহ শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলের কণাগুলিকে গ্রহের বায়ুস্তর থেকে ছিটকে ফেলে দেয়। এইজন্যই শুক্র গ্রহে এখন আর জল নেই।
আকাতসুকি (2015–বর্তমান)
জাপানের আকাতসুকি মিশন শুক্রের আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার
প্রাচীন মানবজাতির কাছে শুক্র গ্রহ ছিল সবচেয়ে সুন্দর স্বর্গীয় বস্তু (Heavenly Body )। শুক্রের কলা ও এর পরিক্রমণ দেখে বিজ্ঞানীরা সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা বিশ্বাসী হতে শিরি করেন। যদিও এটি সৌরজগতের সবচেয়ে চরমভাবাপন্ন গ্রহ। প্রাচীন পুরাণ থেকে আধুনিক মহাকাশ অভিযান পর্যন্ত শুক্র আমাদের গ্রহীয় বিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সৌরজগতের ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে চলেছে। শুক্রকে বোঝা আমাদের পৃথিবীর ভবিষ্যৎ এবং মহাবিশ্বে বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান সম্পর্কেও মূল্যবান ধারণা দিতে পারে।
















ABC প্রিজমের প্রতিসারক কোণ ∠A। PQ রশ্মি AC তলে ∠